কয়েকদিন আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আতিথেয়তায় ছিলেন বিশ্বসেরা ধনকুবের টেসলা কর্তা ইলন মাস্ক। মার-এ-লাগোর রাজকীয় ডাইনিং টেবিলে বসে একসঙ্গে করেছেন নৈশভোজ।

আলোচনায় এসেছে রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে পারিবারিক গল্পও। একসময় ট্রাম্পের ‘সরকারি ব্যয় হ্রাস’ অভিযানে মাস্ক ছিলেন ঘরের ছেলে। বিশ্বাসভাজন দক্ষতার দূত। ট্রাম্পের শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন প্রায় ৪ মাস। অথচ হঠাৎ করেই বদলে গেল সম্পর্কের সমীকরণ।

গলায় গলায় বন্ধুত্ব ছেড়ে এবার সম্মুখ সমরে নেমেছেন তারা। ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নিয়েই বেঁধেছে দ্বন্দ্ব।

ট্রাম্প বলছেন, এই বিল কর ও ব্যয় সংকোচন ও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দেশের আত্মনির্ভরতা গড়ে তুলবে। অন্যদিকে, মাস্ক বলছেন, এ বিল অর্থনীতির গায়ে নতুন ঋণের দাগ বসাতে চলেছে। মাস্ক শুধু সমালোচনাই করেননি বরং, সিনেটরদের ধমকি দিয়ে বলেছেন, এই বিল পাশ হলে পর দিনই তিনি গঠন করবেন নতুন রাজনৈতিক দল- ‘আমেরিকান পার্টি’। অর্থাৎ দিন শেষে, বন্ধু মাস্কই হয়ে উঠলেন বড় শত্রু।

ট্রাম্পও অবশ্য থেমে থাকেননি। কটাক্ষ করেন মাস্ককে বলেছেন, ‘ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি খাওয়া ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক! তার পুরো ব্যবসা দাঁড়িয়ে আছে করদাতাদের পয়সায়। ভর্তুকি বন্ধ হলে ওকে টেসলা ফ্যাক্টরি নয়, লাগেজ গুছিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে হবে।’ বন্ধুত্ব থেকে শত্রুতার এই দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজনীতি।

এসব বিতর্কের মধ্যেই গত ১ জুলাই, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প মাস্ককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘মাস্ককে হয়তো তার নিজের দেশে ফিরে যেতে হতে পারে।’ এই হুমকির পরই মাস্কের মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

মাস্ককে দেশছাড়া করা কি আদৌ সম্ভব?

ইলন মাস্কের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায় হলেও তিনি ২০০২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি ১৭ বছর বয়সে কানাডায় পড়াশোনার জন্য যান এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও পদার্থবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন। বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেয়েছেন তিনি। পরে আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান তিনি।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন আইনসিদ্ধ মার্কিন নাগরিককে দেশছাড়া করা প্রায় অসম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। যুদ্ধাপরাধী বা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই কেবল এটা ঘটতে পারে। কিন্তু মাস্কের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা নাগরিকত্বের আবেদনে জালিয়াতির কোনো প্রমাণ নেই। তাই ট্রাম্পের এই হুমকিকে রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প ও মাস্কের এই বিরোধের সূত্রপাত হয় মে মাসে ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ থেকে পদত্যাগ করার পর। এরপর মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। বিতর্কিত ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগের অভিযোগও তোলেন তিনি।

উল্লেখ্য, শিশুদের যৌন হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন জেফরি এপস্টেইন

.fb-background-color { background: #496aee !important; } .fb_iframe_widget_fluid_desktop iframe { width: 320px !important; }
Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!