নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতায় সরকার গঠনের পর এবার সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার মহাযজ্ঞ শুরু করেছে বিএনপি। দলের হাইকমান্ডের টেবিলে এখন সম্ভাব্য প্রার্থীদের দীর্ঘ তালিকা। তবে সব আলোচনা ছাপিয়ে এখন তৃণমূল ও রাজনৈতিক মহলের নজর—কাদের কপালে জুটছে রাজকীয় এই মনোনয়ন?

‎তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের ঘোষণা আসবে এবং ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি জোটের ভাগ্যে থাকা ৩৬টি আসনের বিপরীতে মনোনয়ন দৌড়ে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি উঠে আসছে রাজপথ কাঁপানো সাহসী মুখগুলো।

‎আলোচনায় যখন নাদিয়া পাঠান পাপনঃ

‎বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দীর্ঘ তালিকায় এবার বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বলিষ্ঠ নেত্রী “নাদিয়া পাঠান পাপন”। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় থাকা এই নেত্রীকে সংসদে দেখতে চান তারা। দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত “নাদিয়া পাঠান পাপন” দলের দুঃসময়ে যেভাবে পাশে ছিলেন, তার মূল্যায়ন হিসেবে তাকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তৃণমূল কর্মীরা।

‎দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, পাপন ছাড়াও ঢাকা মহানগর থেকে নিপুণ রায় চৌধুরী, আরিফা সুলতানা রুমা এবং সেলিনা সুলতানা নিশিতাদের মতো নেত্রীদের নাম আলোচনায় থাকলেও নাদিয়া পাঠান পাপনের প্রতি একটি বড় অংশের নিরঙ্কুশ সমর্থন রয়েছে।

‎মনোনয়ন দৌড়ে আর যারা আছেনঃ

‎বিএনপির দীর্ঘ তালিকায় আরও বেশ কিছু হেভিওয়েট ও পরিচিত নাম আলোচিত হচ্ছে:

‎সিনিয়র নেত্রী: আফরোজা আব্বাস, নিলোফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খান ও রেহেনা আক্তার রানু।

‎পেশাজীবী ও উত্তরাধিকার: ব্যারিস্টার সালিমা বেগম অরুণী (মরহুম আবদুস সালাম তালুকদারের কন্যা), কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, এবং হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ।

‎তরুণ ও মেধাবী:

‎ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা এবং ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।

‎ত্যাগী ও যোগ্যদের মূল্যায়নের দাবি

‎মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলছেন, এবার যেন কোনো ‘হাইব্রিড’ মুখ নয়, বরং যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছেন এবং নির্যাতিত হয়েছেন তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

‎”নাদিয়া পাঠান পাপন” ও তার অনুসারীদের প্রত্যাশা, দল এবার তার সাহসী ভূমিকা ও ত্যাগকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে।

‎বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, দলের স্থায়ী কমিটি ও সংসদীয় বোর্ড যোগ্যদেরই বাছাই করবে যারা সংসদে গিয়ে দলের ও জনগণের পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠে কথা বলতে পারবেন।

‎শেষ পর্যন্ত ৩৬ জনের সেই ভাগ্যবতী তালিকায় নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম থাকছে কি না, তা দেখার জন্য এখন চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় দলের নেতাকর্মীরা।

.fb-background-color { background: #496aee !important; } .fb_iframe_widget_fluid_desktop iframe { width: 320px !important; }