| ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ

ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলা হয় ইলিয়াস আলীর

ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলা হয় ইলিয়াস আলীর
৬০

সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেপ্তারের পর তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও রাষ্ট্রীয় অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদে ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে দায় চাপাচ্ছেন অন্যদের উপর। তবে তিনি বিএনপি নেতাকে গুম, নেপথ্য, কারা জড়িত এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। ডিবি তার দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই করছে।

শেখ মামুন খালেদ গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, গুম করার সংকেত আগেই দেয়া হয়েছিল। ইলিয়াস আলী টিপাইমুখ বাঁধ এবং পার্শ্ববর্তী একটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এই বাঁধ ও চুক্তি ওই দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইলিয়াস আলী এর বিরুদ্ধে গিয়ে আন্দোলনও করেছিলেন। এরপরই সরকারের রোষানলে পড়েন। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ইলিয়াস আলীকে সরিয়ে দেয়া হয়। শেখ হাসিনা তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান ও র‌্যাব’র মহাপরিচালকে গুমের মিশন বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দেন। গুমের পুরো প্রক্রিয়া রেকি ও বাস্তবায়ন করে র‌্যাব-১। আর র‌্যাবকে সহযোগিতা করে ডিজিএফআইয়ের কিছু কর্মকর্তা। সবচেয়ে বড় ভূমিকা ও ইলিয়াস আলী গুম মিশনের নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।

শেখ হাসিনা ঘটনার আগে পরে জিয়াউলের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর ২০১২ সালের ১৭ই এপ্রিল ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে বনানী থেকে গুম করে নেয়া হয় র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে। সেখানে ইলিয়াসকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে মারধর করা হয়। গোয়েন্দাদের সূত্র জানিয়েছে, তুলে নেয়ার পর ১৭ থেকে ২০শে এপ্রিলের কোনো এক রাতে ইলিয়াস আলীকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে লাশ ফেলে দেয়া হতে পারে।

অন্যদিকে গুম হওয়া স্বামীর সন্ধান চেয়ে ২১শে এপ্রিল ইলিয়াসপত্নী সন্তানদের নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। পরে শেখ হাসিনা জিয়াউল আহসানকে ফোন দিলে ইলিয়াস আলীকে চূড়ান্ত গুম করার ইঙ্গিত দেন ওই কর্মকর্তা।

এদিকে সরকারের নির্দেশনায় ইলিয়াস আলীকে গুম করা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে ফের সাতদিনের রিমান্ড চান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। আদালত আবার তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন খালেদ জানান, ইলিয়াস আলীকে গুম করার জন্য কাজ করে ডিজিএফআই ও র‌্যাব’র একটি বিশেষ টিম। তাদের আগে থেকেই ব্রিফ করে তৈরি করা হয়েছিল। সার্বিকভাবে দিকনির্দেশনা মামুন খালেদ নিজেই দিয়েছিলেন।

ইতিমধ্যে আলোচিত এই গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পর গুমের সঙ্গে জড়িত র‌্যাব ও ডিজিএফআইয়ের সকল সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদিও তাদের কেউ কেউ দেশত্যাগ করেছেন। কেউ আগেই গা-ঢাকা দিয়েছেন। কেউ অবসরে গেছেন। অনেকেই এখনো চাকরিতে বহাল তবিয়তে আছেন। মামুন খালেদ জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলী গুম মিশনে ডিজিএফআইতে কর্মরত দু’জন মেজর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন। আর ইলিয়াস গুমের বিষয়ে অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষপদধারীরা অবগত ছিলেন।

গুমের স্বীকার বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী বেঁচে আছেন নাকি তাকে মারা হয়েছে এমন প্রশ্ন চৌদ্দ বছর ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে তার কর্মী, সমর্থক ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। কিন্তু সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কেউ দিতে পারেনি। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তো উত্তর মিলেনি বরং ওই সময় ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে কোনো তদন্তই হয়নি বলে দাবি করেছেন তার পরিবার ও বিএনপি। একটি পক্ষ আগেই ধারণা করেছিলেন ইলিয়াস আলীকে হত্যা করা হয়েছে। আর আরেকটি পক্ষ মনে করতেন ইলিয়াস বেঁচে আছেন এবং তিনি ফিরবেন। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পর ডিজিএফআই নিয়ন্ত্রণাধীন আয়নাঘর খ্যাত বন্দিশালা থেকে গুমের শিকার অনেকেই মুক্তি পান। তখনো ইলিয়াস আলী ফিরেননি। এরপর থেকে তার ফিরে আসার আশা একেবারেই ক্ষীণ হয়ে আসে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনাও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আমার স্বামী ইলিয়াস আলী কোথায়?

তদন্ত সূত্র জানায়, ঘটনার রাতে সন্ধ্যার পর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইলিয়াস আলী তৎকালীন শেরাটন হোটেলে (বর্তমান ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল) বসে মিটিং করছিলেন। রাত ১১টার দিকে তিনি নেতাকর্মীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তখন থেকেই তাকে অনুসরণ করছিল জিয়াউল আহসানের গুম স্কোয়াডের এক সদস্য। তিনি একটু পর পর ইলিয়াস আলীর গাড়ির অবস্থান জিয়াকে জানিয়ে দেন। মহাখালী পৌঁছার পর ইলিয়াস আলীর গাড়ি সরাসরি অনুসরণ শুরু করে জিয়ার টিম। মহাখালী থেকে বনানীর ২ নম্বর সড়কে যাওয়ার পর গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে থামানোর পর ড্রাইভার আনসারসহ ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করে এই টিমের সদস্যরা। তারপর সেখান থেকে নেয়া হয় র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে।

মেহেরপুরে বৈষম্যহীন সমাজ ও নারী অধিকার নিশ্চিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলা হয় ইলিয়াস আলীর

মেহেরপুরে ‘বৈষম্যহীন সমাজ ও নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারী শান্তি বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়েব’ (WEP), মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

শনিবার সকালে মেহেরপুর শহরের একটি স্থানীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি “জনাব জাহাঙ্গীর বিশ্বাস”

 

অনুষ্ঠানে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন:
“একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে পেছনে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে নারীর অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনা সভায় বক্তারা মেহেরপুর জেলায় নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং পারিবারিক সহিংসতা রোধে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। ‘ওয়েব’ প্ল্যাটফর্মের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, তারা জেলায় নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর করতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, নারী নেত্রী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভার শেষে সমাজের সকল স্তরে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

৮নং ধামশ্রেনী ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে এস.এম নাইমুর রহমান গফ্ফার

ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলা হয় ইলিয়াস আলীর

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ৮নং ধামশ্রেনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এ নির্বাচনে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আবু-বক্কর সিদ্দিকের সুযোগ্য পুত্র এস.এম নাইমুর রহমান (গফ্ফার)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে এলাকায় তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাকে ঘিরে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে এলাকাজুড়ে এক ধরনের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই তাকে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে দেখছেন। তরুণদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, নতুন নেতৃত্ব এলে এলাকায় উন্নয়নের নতুন ধারা সৃষ্টি হতে পারে। তবে কিছু ভোটারের মধ্যে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে, যা নির্বাচনী মাঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে এস.এম নাইমুর রহমান (গফ্ফার) “দৈনিক বাংলার চিত্র”-কে জানান, তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন পেলে ধামশ্রেনী ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চান। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান তরুণ সমাজকে নিয়ে গঠনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায়।

তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তিনি সবসময় এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। তার সেই আদর্শকে ধারণ করেই আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”

এদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় ৮নং ধামশ্রেনী ইউনিয়নের রাজনৈতিক পরিবেশ ধীরে ধীরে সরগরম হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রচারণা বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে রূপ নিতে পারে।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বলা যায়, ৮নং ধামশ্রেনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, সেখানে এস.এম নাইমুর রহমান (গফ্ফার) একটি আলোচিত নাম হিসেবে ইতোমধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হন কিনা এবং হলে ভোটারদের আস্থা কতটা অর্জন করতে পারেন।

মেহেরপুরে বোমা সদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার

ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলা হয় ইলিয়াস আলীর

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি বোমা সদৃশ বস্তু ও রহস্যজনক চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার সকালে উপজেলার চর গোয়াল গ্রামের মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয়রা জানান, সকালে নদীর পাড়ে একটি পরিত্যক্ত বস্তু দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে কাছে গিয়ে সেটি বোমা সদৃশ মনে হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

তাৎক্ষণিকভাবে গাংনী থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে বোমা সদৃশ বস্তুটি ও একটি চিরকুট উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। চিরকুটে কী লেখা ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানায়নি পুলিশ।

 

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

একটি বোমা সদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।