| ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী
৫৮
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা)। পাচার হওয়া এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
তারেক রহমান জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন) চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দেশের (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।
সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অপরদিকে, আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ হাজার ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে মোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মামলার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মেহেরপুরে বৈষম্যহীন সমাজ ও নারী অধিকার নিশ্চিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী

মেহেরপুরে ‘বৈষম্যহীন সমাজ ও নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারী শান্তি বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়েব’ (WEP), মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

শনিবার সকালে মেহেরপুর শহরের একটি স্থানীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি “জনাব জাহাঙ্গীর বিশ্বাস”

 

অনুষ্ঠানে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন:
“একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে পেছনে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে নারীর অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনা সভায় বক্তারা মেহেরপুর জেলায় নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং পারিবারিক সহিংসতা রোধে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। ‘ওয়েব’ প্ল্যাটফর্মের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, তারা জেলায় নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর করতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, নারী নেত্রী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভার শেষে সমাজের সকল স্তরে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

৮নং ধামশ্রেনী ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে এস.এম নাইমুর রহমান গফ্ফার

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ৮নং ধামশ্রেনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এ নির্বাচনে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আবু-বক্কর সিদ্দিকের সুযোগ্য পুত্র এস.এম নাইমুর রহমান (গফ্ফার)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে এলাকায় তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাকে ঘিরে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে এলাকাজুড়ে এক ধরনের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই তাকে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে দেখছেন। তরুণদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, নতুন নেতৃত্ব এলে এলাকায় উন্নয়নের নতুন ধারা সৃষ্টি হতে পারে। তবে কিছু ভোটারের মধ্যে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে, যা নির্বাচনী মাঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে এস.এম নাইমুর রহমান (গফ্ফার) “দৈনিক বাংলার চিত্র”-কে জানান, তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন পেলে ধামশ্রেনী ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চান। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান তরুণ সমাজকে নিয়ে গঠনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায়।

তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তিনি সবসময় এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। তার সেই আদর্শকে ধারণ করেই আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”

এদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় ৮নং ধামশ্রেনী ইউনিয়নের রাজনৈতিক পরিবেশ ধীরে ধীরে সরগরম হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রচারণা বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে রূপ নিতে পারে।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বলা যায়, ৮নং ধামশ্রেনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, সেখানে এস.এম নাইমুর রহমান (গফ্ফার) একটি আলোচিত নাম হিসেবে ইতোমধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হন কিনা এবং হলে ভোটারদের আস্থা কতটা অর্জন করতে পারেন।

মেহেরপুরে বোমা সদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি বোমা সদৃশ বস্তু ও রহস্যজনক চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার সকালে উপজেলার চর গোয়াল গ্রামের মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয়রা জানান, সকালে নদীর পাড়ে একটি পরিত্যক্ত বস্তু দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে কাছে গিয়ে সেটি বোমা সদৃশ মনে হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

তাৎক্ষণিকভাবে গাংনী থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে বোমা সদৃশ বস্তুটি ও একটি চিরকুট উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। চিরকুটে কী লেখা ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানায়নি পুলিশ।

 

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

একটি বোমা সদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।