ছাত্রদল থেকে মহানগর নেতৃত্ব—সংরক্ষিত নারী আসনে শক্ত প্রার্থী নাদিয়া পাঠান পাপন
ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করেছেন।
সরকার গঠনের পরপরই সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় রাজপথে সক্রিয়তাঃ
নাদিয়া পাঠান পাপন ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর একজন সাবেক নেত্রী হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের কর্মসূচি এবং কেন্দ্রীয় ঘোষিত নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

২০০০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চান্দুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে তিনি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ-এ যুক্ত হন এবং সেখানকার ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সে সময় ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও রয়েছে তার রাজনৈতিক জীবনে।
আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতাঃ
২০১৩ সালের মার্চে অবরোধ কর্মসূচিতে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেলের আক্রমণের শিকার হন তিনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনী প্রচারণায় কামরাঙ্গীরচরে হামলার অভিযোগও রয়েছে। ২০১৫ সালের নির্বাচনের দিন ভোটার স্লিপ বিতরণের সময়ও হামলার শিকার হন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানান।

২০১৭ সালে আদালত থেকে ফেরার পথে দলীয় কর্মীদের সহায়তা করতে গিয়ে পুলিশি লাঠিচার্জের মুখে পড়েন তিনি। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় হামলা-মামলা ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সবশেষ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় রাবার বুলেটে আহত হওয়ার ঘটনাও আলোচিত হয় দলীয় মহলে।
বর্তমান সাংগঠনিক ভূমিকাঃ
বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজধানীকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং নারীনেতৃত্ব বিকাশে তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।
নাদিয়া পাঠান পাপনের বক্তব্যঃ
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হওয়ার বিষয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান-এর ১৯ দফা আদর্শ ধারণ করেই তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন এবং দলের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন।

তার ভাষায়, “চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সব আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকেছি। সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে কাজ করার সুযোগ চাই। মনোনয়ন পেলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করবো—করবো কাজ, গড়বো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।”
দলীয় মহলে জোরালো আলোচনাঃ
দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেত্রীদের নাম আলোচনায় আসছে। এ ক্ষেত্রে ছাত্রদল ও মহিলা দলের সাবেক নেত্রীদের মধ্য থেকে কয়েকজন এগিয়ে থাকলেও নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম ঘিরে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা—এই তিন বিষয়ই সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


| ১৪ মে ২০২৬









